বুধবার, এপ্রিল ২১, ২০২১ | ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

তরুণ শিল্পীদের রঙে রাঙা বার্জারের তরুণ শিল্পী চিত্রকর্ম প্রতিযোগিতা

কোটিংস্টুডে ডেস্কঃ রঙ নিয়ে মানুষের আদিখ্যেতা সেই প্রাচীনকাল থেকেই। রবি ঠাকুরের “রঙ যেন মোর মর্মে লাগে, আমার সকল কর্মে লাগে” গুণগুণ করে গেয়ে উঠলেও আমরা খুব কমই খেয়াল করি রঙ আমাদের মন ও মননে কতটা প্রভাব ফেলে। এজন্যই কারো পোশাকের রঙ কিংবা ঘরের দেয়ালের রঙ বা পেইন্টিং দেখে আমরা তার রুচি এবং ব্যক্তিত্ব আঁচ করতে পারি, তার নান্দনিক চেতনার আভাস পাই।

আমাদের ছেলেবেলার সবচেয়ে আনন্দের কাজগুলোর একটি যদি মনে করতে বলা হয় তাহলে আমরা নির্দ্বিধায় বলে উঠবো রঙ নিয়ে খেলা করা। দেয়ালকে মনের ক্যানভাস বানিয়ে রঙপেন্সিল দিয়ে আঁকতে পছন্দ করেনা এমন শিশু খুঁজে পাওয়া ভার। কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে রঙ নিয়ে এই আগ্রহ কোথায় যেন হারিয়ে যায়, হয়তো কাজের চাপে। রঙের প্রতি ভালবাসা তাই এখন ঘরের দেয়ালে টাঙ্গানো পেইন্টিং কিংবা নিত্যনতুন ডিজাইনে আধুনিক ঢং কিংবা আভিজাত্যের ছোঁয়ায় রঙ করা দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ। আবার হাল ফ্যাশনেও দেখা যায় ভ্যান গগসহ বিভিন্ন চিত্রশিল্পীর আঁকা ছবির মুদ্রণ।

কিছু স্বপ্নালু মানুষের রঙ আর ছবির প্রতি অনুরাগ তবুও থেকেই যায়। শিল্পকলায় কিংবা বিভিন্ন আর্ট এক্সিবিশনে ভিড় জমাতে দেখা যায় অনেককেই। এখনও কিছু মানুষ ছবি আঁকতে ভালবাসে, ছবি নিয়ে কথা বলতে আগ্রহ দেখায় কিংবা ছবি নিয়ে গবেষণা করতে উৎসুক। প্রায়শই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্লার্টফর্মে বিভিন্ন তরুণ চিত্রশিল্পীদের তাদের চিত্রকর্ম বন্ধুদের মধ্যে শেয়ার করতে দেখা যায়। চিত্রশিল্পের প্রতি তরুণদের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড ১৯৯৬ সাল থেকে তরুণ চিত্রশিল্পীদের উৎসাহ প্রদান এবং তাদের সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য আয়োজন করে আসছে তরুণশিল্পী চিত্রকর্ম প্রতিযোগিতার। এই প্রতিযোগিতার ফলে তরুণশিল্পীরা তাদের চিত্তাকর্ষক সব শিল্পকর্ম অধিক সংখ্যক জনগণের সামনে যেমন তুলে ধরতে পারে, তেমনি তাদের কাজের মাধ্যমে সারাদেশে পরিচিতি লাভ করে।

বার্জার তরুণশিল্পী চিত্রকর্ম প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সাথে জুরি কমিটি ও বার্জার পেইন্টস-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর রূপালী চৌধুরী, সেলস এন্ড মার্কেটিং -এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মহসিন হাবিব চৌধুরী সহ অন্যান্যদের দেখা যাচ্ছে।

বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) একেএম সাদেক নাওয়াজ বার্জারের এই আয়োজন নিয়ে বলেন, ‘বার্জার শুরু থেকেই বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশে বিভিন্নভাবে ভূমিকা রেখে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত পঁচিশ বছর ধরে সফলভাবে তরুণশিল্পী চিত্রকর্ম প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। আমরা বিশ্বাস করি আজকের তরুণদের হাত ধরেই আগামীর বাঙালি সংস্কৃতির রূপরেখা অঙ্কিত হবে। তাই দেশের উদীয়মান চিত্রশিল্পীদের সৃজনশীলতা বিকাশে বার্জারের এই উদ্যোগ’।

কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবে থমকে গেছে বিশ্ব। অন্য সকল ক্ষেত্রের মত শিল্প ও চিত্রকর্ম প্রদর্শনী, প্রতিযোগিতা সহ বিভিন্ন আয়োজনে পড়েছে ভাটা। কিন্তু তাই বলে থেমে থাকেনি চিত্রকর্ম সৃষ্টিতে আগ্রহ। ঘরে বসেই তরুণরা তাদের চিত্রকর্মের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে সংকটকালীন সময়ের সামগ্রিক অবস্থা। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বার্জার তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আয়োজন করেছিল ২৫তম তরুণ শিল্পী চিত্রকর্ম প্রতিযোগিতা।

প্রতিযোগিতার এবারের আসরে ৩৯২ জন প্রতিযোগীর আঁকা মোট ৭৭২টি চিত্রকর্ম জমা পড়ে। প্রথিতযশা চিত্রশিল্পীর সমন্বয়ে গঠিত জুরি বোর্ড বিজয়ীদের নির্বাচন করেন। বিজয়ীরা পুরস্কার হিসেবে প্রাইজ মানি, ক্রেস্ট ও সনদ প্রাপ্তির পাশাপাশি কলকাতার রবীন্দ্র ভারতীতে চিত্রকলা বিষয়ক কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। অনিশ্চিত এবং আবদ্ধ সময়ে বার্জারের এমন আয়োজনে তরুণ শিল্পীদের আগ্রহ যেমন বিকশিত হয়েছে, ঘরে বসেই নতুন সব শিল্পকর্মের সন্ধান পেয়ে সাধারণ মানুষ তেমনি পেয়েছে স্বস্তি।

সংবাদটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন